মিনা মাশরাফী।।
আসে হেমন্ত সূর্য উঠার স্নিগ্ধ ভোরে বুনো পাখীদের কলতানে..
আলোর সোহাগে মোরগ ডাকা প্রহর ঘড়ির উচ্চারণে ।
রোদ ছিটানো হীরের দ্যূতি শিশির ভেজা ঘাসের ডগায়
কৃষান বধুর ধান ছড়ানো কলাই বিছানো সুবিশাল আঙ্গিনায়..
কমলা বোটার শুভ্র শেফালী ঝরে মিস্টি সুবাসে মাটির বিছানায়।
হেমন্ত আসে ঘন কুয়াশায় হিমেল সকালে
মিস্টি মধুর সুরে কিচির মিচির গাছের ডালে ..।
উঠোনে উনুন ঘিরে পিঠে খাওয়ার ধুম..
দু’হাতে কচ্ লানো চোখে ঢুলুঢুলু ঘুম…
মায়ের গন্ধ মিশে খুঁজে পাই আদরের চুম ।
ঘরের চালে সুখের তানে বাঁকুম বাকুম…
লাকড়ির উনুনে সিদ্ধ ধানের সুবাস কুসুম..
আহা কি মায়ায় বেঁধে রাখে হেমন্ত মৌসুম।
সোনালী ধানের ক্ষেতে বাতাস নাচে রুমু ঝুম
কৃষান কাটে ধান কাস্তে হাতে সুর তুলে গুনগুন।
ধানের আঁটি মাথায় নিয়ে তোলে আপন আঙ্গিনায়
মাড়াই ধান আউলী বাতাসে বধু কুলায় পাতান উড়ায়।
নবান্ন উৎসবে মৌ মৌ সুবাসে সারা গ্রাম আনন্দে মাতে
নাডু মোয়া মুড়কীর ভার কাঁধে ফেরিওয়ালা ঘুরে পথে পথে
ধান কুড়নী শিশুরা ছুটে ঢাকি ভরা ধান দিয়ে মুড়ি নিতে।
খেজুর রসে সিরনী খেতে পড়শীর সব মহা উৎসবে মাতে।
হেমন্ত আসে সন্ধ্যা রাতে বনের ধারে চিক্ চিক্ জোনাকীর ভিড়ে…
জোস্না হাসি ঠিকরে পড়ে, বাঁশবাগানের চিকন পাতা চিরে চিরে..
হেমন্ত আসে চাঁদনী রাতে জোস্নার ঢল সান বাঁধানো দিঘির পাড়ে ..।
স্বর্ণকুন্জ’ ঢাকা
১/১১/২০২১
Leave a Reply